ডিজিটাল সহিংসতা: নারীদের কণ্ঠরোধের নতুন অস্ত্র
নুজহাত তাবাসসুম | 27 August 2025
যেখানে নারী থাকে, সেখানে জীবন পূর্ণ হয়; তারা সমাজকে প্রাণবন্ত করে, পরিবারকে শক্তি দেয়। তবু তাদের জীবন প্রায়শই সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যে কাটে—ছোটো স্বপ্ন, সুযোগ, কণ্ঠস্বর সবই বন্ধ হয়ে যায় সামাজিক নিয়ম বা অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে। নারী ঘর-সংসার, শিশু লালন-পালন বা পেশাগত কাজ সমন্বয় করে চলেছেন, তবু তাদের পরিশ্রমকে প্রায়শই স্বাভাবিক ধরে নেওয়া হয়। ধরে নেওয়া হয় এটাই তার থেকে ‘কাম্য’। এই বাঁধার মধ্যেও তারা সংগ্রাম করে, নিজের পথ খুঁজে বের করে এবং আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। কিন্তু আমরা প্রায়শই তাদের অবদান ভুলে যাই, ফলে তারা সমাজে অদৃশ্য হয়ে থাকে। নারী কম পরিশ্রম করছে না—বরং, তারা প্রায়শই পুরুষের চেয়ে বেশি দায়িত্ব ও শ্রম পালন করে, তবু যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। রাজনীতির মঞ্চে তারা অদৃশ্য। তাদের কণ্ঠ প্রায়শই উপেক্ষিত হয়, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ সীমিত রাখা হয়। অনেক সময় নেতৃস্থানীয় পদে নারীর প্রবেশকে বাধাগ্রস্ত করা হয়, তাদের মতামত উপেক্ষিত হয়। ফলে নারীর ক্ষমতায়ন আজও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে, এবং তাদের পূর্ণ অংশগ্রহণ ছাড়া সমাজ ও রাজনীতি কখনই সত্যিকারের সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে না।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে সব আন্দোলন - সংগ্রামে বাংলাদেশের নারীদের অবদান অপরিসীম। ১৯৯০, ২০০৭, ২০১৩ ও সর্বশেষ ২০২৪ সকল রাজনৈতিক আন্দোলনে নারীরা সম্মুখ সারি থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে, সাহসিকতার সাথে লড়াই করেছে। নারীর অগ্রণী নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সাহসী ও যুগান্তকারী অধ্যায় হয়ে আছে। এই বিষয়টি সমাজে স্বীকৃত থাকলেও নারীর এ অবদান অনেকটাই অবহেলিত। আন্দোলনের ইতিহাস বা রাজনৈতিক সংগ্রামের বর্ণনা যা আমরা পড়ি বা জানি, তা সাধারণত পুরুষদের অভিজ্ঞতা, অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বকে কেন্দ্র করেই লেখা হয়েছে। নারীর ভূমিকা ও দৃষ্টিভঙ্গি তাতে প্রায় অনুপস্থিত বা গুরুত্ব পায় না। তাদের অবদান হয় উপেক্ষিত, নয়তো গৌণ করে উপস্থাপন করা হয়, ফলে ইতিহাস হয়ে পড়ে অসম্পূর্ণ। আন্দোলনের সময় অনেক প্রশংসা পেয়ে থাকলেও আন্দোলন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তাদের অবদান সবাই ভুলে যায়। তাদেরকে মুখোমুখি হতে হয় লিঙ্গ বৈষম্যের স্বীকার। রাজনৈতিক সংস্কৃতি কিংবা পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নারী অবদানকে হেয় করে রাখে।
১৯৭২ সালের সংবিধানে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়, যা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল নারীর অগ্রগতির জন্য। সেই থেকে বর্তমান পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা এগিয়ে এসেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে কর্তৃত্ববাদী শাসক গোষ্ঠীর পতনের আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তাদের দেখা গিয়েছে একদম সম্মুখ সারিতে, নেতৃত্ব দিতে। বন্দুক বা টিয়ারসেলের সামনে পিছপা হয় নি একটুও। নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া যে আন্দোলন সফল হতো না, সে আন্দোলন শেষে আবার শোনা যায় যে সেই নারীরাই দুর্বল ও কম যোগ্য। গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পার হয়ে গেলেও তারা তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতিটা এখনো তারা পায় নি। জুলাই পরবর্তী সময়ে শুরু হয় নারীদের কণ্ঠরোধ করার প্রক্রিয়া। যথেষ্ট ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ এবং নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষমতা তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে না। বরং তাদেরকে হতে হচ্ছে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় ও অবজ্ঞার স্বীকার। তাঁদেরকে দেখা হয় "সহযোগী" হিসেবে—যার রাজনৈতিক ক্ষমতা বা বিশ্লেষণধর্মী কণ্ঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। যার মূল কারণ পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক কাঠামো। এই পিতৃতান্ত্রিক রাজনীতি বিশেষ করে ভয়াবহ রূপ নেয় যখন এটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থান নেয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাদের প্রতি রাজনৈতিক ও সামাজিক হেনস্তা জঘন্য পর্যায়ে চলে গিয়েছে। এখন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নারীর অংশগ্রহণ যতটা প্রয়োজন, ততটা নিরাপদ নয়। নারীদেরকে পণ্য হিসেবে দেখার যে দৃষ্টিভঙ্গী সেটা স্বাধীনতার ৫৬ বছর পরে কিংবা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও পাল্টায়নি।
এই সাহসী ও মর্যাদাপূর্ণ নারীদের চরিত্র হননের জন্য বেছে নেওয়া হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। তাদের ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে মিম বানানো, বিকৃত ভিডিও বা ছবি ছড়ানো, গুজব ছড়ানো ইত্যাদি —সবকিছু পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়। কেবল তারাই নয়, বরং জুলাই আন্দোলনে যেসকল পুরুষরা সক্রিয় ছিল তাঁদের পরিবারের বা ঘনিষ্ঠ নারীদের টার্গেট করা হয়েছে। নারীদেরকে টেনে নিচে নামানোর জন্য তাদের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করাটা এখন খুব স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। ডিজিটাল সহিংসতা মানে শুধু অপমান নয়—এটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।
সম্প্রতি প্রকাশিত, “একশনএইডের গবেষণায়, দেখা যাচ্ছে যে, অনলাইনে নির্যাতনের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ফেসবুক (৪৭ শতাংশ), তারপর মেসেঞ্জার (৩৫ শতাংশ)। সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হচ্ছে ফেসবুকে কোনো নারীকে নিয়ে আপত্তিকর, নোংরা, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ এবং ঘৃণা–বিদ্বেষমূলক কমেন্ট করা (৮০ দশমিক ৪ শতাংশ)। এর পরেই আছে ইনবক্সে নোংরা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মেসেজ বা ছবি পাঠানো (৫৩ শতাংশ)। ১৭ দশমিক ৫ শতাংশের ক্ষেত্রে ফেইক আইডি খুলে হয়রানির মাত্রা বাড়ানো হয়েছে। ১১ দশমিক ৮ শতাংশের ক্ষেত্রে নারীদের ফেসবুকের ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য অনুমতি না নিয়ে পোস্ট করা হয়েছে এবং বুলিং করা হয়েছে। ১১ দশমিক ৮ শতাংশ নারী ফেসবুক ওয়ালে বা মেসেঞ্জারে ক্রমাগত ধর্ষণ বা সেক্সুয়াল অ্যাসল্টের হুমকি পেয়েছেন।” প্রতিবেদনে এটিও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিজিটাল মব লিঞ্চিংয়ের এই যুগে নারীকে অনলাইনে ‘ধর্ষণ’ করা এখন খুব সোজা। একটি ফেসবুক আইডি দিয়েই নারীকে সহজে যৌন নির্যাতন করা যায়, যার বিচার কখনই হবে না। নারীর পোশাক, চলাফেরা নিয়ে অনলাইনে নিয়মিত মব হচ্ছে। এই সহিংসতা কেবল অনলাইন হুমকি নয়—এটি রাজনৈতিকভাবে কণ্ঠরোধের অন্যতম কৌশল। উদ্দেশ্য একটাই, নারীর স্বাধীন মত প্রকাশ বা রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার অধিকার নেই। নারীদের বারবার বোঝানো হচ্ছে, তাদের জন্য রাজনীতি নিরাপদ নয় এবং তাদের মত প্রকাশের পরিণাম ভয়ঙ্কর হতে পারে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসেই একটি টিকটক ভিডিও বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য নারী আইনজীবীর নামে প্রচার করা হয়, এটি ছিল মূলত একটি ডিপফেইক ভিডিও যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপর একজন অভিনেত্রীর ভিডিও সম্পাদনা করে বানানো হয়েছে। ঠিক একইভাবে অপ্রীতিকর ছবি সম্পাদনা করে তা একজন সাবেক নারী জনপ্রতিনিধির নামে প্রচার করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন নারী সমন্বয়ক নাইটক্লাবে নাচছে, যা প্রকৃতপক্ষে ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের। এইভাবে অনলাইনে অসংখ্য নারী হয়রানির স্বীকার হয়েছে। তাদের নামে ফেইক ভিডিও বা আপত্তিকর ছবি সম্পাদনা করে ফেসবুক এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্লাটফর্মে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। অনেক সময় তাদের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইক আইডি খুলে বাজে মন্তব্য করা হয়। এখানে বাদ যায়নি নারী উপদেষ্টারাও। এসব ঘটনার পরও কোনো রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা কোন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা বলেছেন, “যারা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় টার্গেট করে হ্যারাস করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যার কারণেও নারীরা কর্নার হয়ে গিয়েছেন।” ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত এসব কার্যক্রম অনবরতভাবে চলছে। এসব কারণে নারীরা রাজনৈতিক মত প্রকাশ বা রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়। আমরা এটা বুঝতে চাই না যে, মোট জনগণের একটি বড় অংশ অর্থাৎ নারীদের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে একটি দেশ কখনোই আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে না, সর্বোপরি গণতন্ত্র দুর্বল হবে, নীতি-নির্ধারণে বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি থাকবে না। দেশ পিছিয়ে থাকবে যুগ যুগ ধরে।
রাজনৈতিক দলগুলো নারীর অধিকার নিয়ে যতটা উচ্চবাচ্য করে, প্রতিশ্রুতি দেয়—কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো শব্দের জঞ্জাল হয়ে পড়ে থাকে। দলীয় কাঠামোয় নারী নিরাপত্তা, নেতৃত্ব বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ—এসব বিষয়ে কোনও মৌলিক সংস্কার চোখে পড়েনি। সময়ের সাথে সাথে নারীর প্রতি সহিংসতারও পরিবর্তন এসেছে। আজকের দিনগুলোতে সহিংসতা আর কেবল শারীরিকভাবে সীমাবদ্ধ নেই; এটি মানসিক চাপের মাধ্যমেও প্রকাশ পাচ্ছে। তবু, রাজনৈতিক দলগুলোতে এ বিষয়ে কোনো গভীর ভাবনা বা পদক্ষেপ দেখা যায় না; নেই কোনো কোড অফ কনডাক্ট বা অনলাইন আচরণবিধি। নির্বাচন আসলে রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলা শুরু করে। কিন্তু নারীদের নিরাপত্তা বা নেতৃত্বে তাদের অংশগ্রহণ নির্বাচনের সময়েই কেন আসবে? এভাবে নারীদেরকে কেবল ভোট ব্যাংকের অংশে পরিণত করা হচ্ছে। এটি নারীদেরকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করাকেই ইঙ্গিত দেয়। রাজনৈতিক দলগুলোর কাঠামোতে নারীর কণ্ঠ এখনও নিভৃত, নীরব বা ‘প্রতিনিধিত্বশীলতার বাহ্যিকতা’য় আটকে আছে। বাস্তবে রাজনৈতিক চর্চায় তাদের কোন ভূমিকা নেই।
শুধু তৃণমূল নারীদের সংগ্রাম দিয়েই এই পরিস্থিতির বদল হবে না। পরিবর্তন আসতে হবে রাজনৈতিক কাঠামোর উপর থেকে—সিধান্ত গ্রহণের জায়গা থেকে, ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে। রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিমালার নারীর নিরাপত্তা, নেতৃত্ব ও সম্মান নিশ্চিত করা দরকার। নারীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রয়োজন এখন আত্মসমালোচনার সাহস। নিজেদের ভেতরে প্রশ্ন তোলা—আমরা কি সত্যিই এমন একটি দল গড়ছি যেখানে নারীরা নিরাপদ বোধ করে? কেবল রাজনৈতিক দলের উপর নির্ভর করে থাকলেই চলবে না। নিজদের মধ্যেও প্রশ্ন তুলতে হবে যে, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত দলগুলো কি আদৌ নারীর কণ্ঠকে শ্রদ্ধা করতে চায়? নাকি কেবল সেই নারীকেই মেনে নেয়, যিনি নীরব, অনুগত, অথবা "পরিচিত বৃত্তের" ভেতরে থাকেন? ডিজিটাল সহিংসতা তাই আজ আর শুধু নারীদের ব্যক্তিগত সংকট নয়—বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি অন্তর্নিহিত ব্যর্থতা, যেখানে সমালোচনা নয়, নিয়ন্ত্রণকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। ডিজিটাল সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন, রাজনৈতিক দলের কোড অফ কনডাক্টে অনলাইন আচরণকে যুক্ত করা, এবং নারীর প্রতি অনলাইন সহিংসতা বন্ধে প্রযুক্তিগত ও নীতিগত উদ্যোগ জরুরি। ডিজিটাল সহিংসতা এখন কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়—এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা, একটি রাজনৈতিক নীরবতা, এবং একটি সাংস্কৃতিক দৈন্যতা—যা আজকে অনলাইনে নারীকে নিঃশব্দ করে তুলছে।
নারী নেতৃত্ব, মতপ্রকাশ, এবং প্রতিবাদ—সবকিছুই আজ নিরন্তর সাইবার টার্গেটিং-এর শিকার। কোনো আইন নেই, সুরক্ষা নেই, বিচার নেই। এত বাধা, এত সহিংসতা, এত চরিত্রহননের অপচেষ্টা—সব পেরিয়েও নারীরা থেমে যাননি। বরং তাঁরা আরও সাহস নিয়ে, আরও সংগঠিতভাবে, আরও কণ্ঠস্বর জোরালো করে উঠছেন। এই নারীরা শুধু ভুক্তভোগী নন, তাঁরা প্রতিরোধের প্রতীক। তাঁদের উপস্থিতি প্রমাণ করে কোনও রাজনৈতিক দলের নীরবতা, কিংবা কোনও ডিজিটাল সহিংসতা তাঁদের মত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নিতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। কারণ তাঁরা জানেন, চুপ থাকাটাও অন্যায়কে মেনে নেওয়া এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া সামিল। এখন প্রস্তাব নয়—বাস্তবায়ন চাই। প্রতিশ্রুতি নয়—পদক্ষেপ চাই। কারণ নারীর কণ্ঠ মানে কেবল একটি বক্তব্য নয়—এটি গণতন্ত্রের প্রাণবায়ু। একে দমন নয়, রক্ষা করতে না পারলে গণতন্ত্র নিঃশ্বাস হারাবে।
Nuzhat Tabassum is a Program Assistant at the Centre for Governance Studies. This blog was published as a part of the ongoing collaborative partnership project between the Embassy of the Kingdom of the Netherlands and the CGS under the project “Women and Youth Engagement in Politics in a Post-Uprising Bangladesh.”